Apr 14, 2007

নীল জলের পদ্মেরা, কালো ভ্রমরের স্বপ্নেরা



সাদা চশমা

কালো চশমা

...

রোদ চশমা

ছায়া চশমা

...

তুমি হাঁটছ

কথা বলছ

মেঘ করছে

জল নাচছে

...

আমি দেখছি

কথা বলছি

মেঘ ডাকছে

জল করছে

...

তুমি নাচছ

তুমি ডাকছ

চোখ বলছে

কিছু খুঁজছে

...

চোখ ডুকরে

বালি ঠুকরে

রোদ কামড়ে

ছায়া দুমড়ে

...

তুমি কাদাকাদা

আমি থিকথিক

কবিতার গায়ে

মোহ ধিকধিক।।

Apr 12, 2007

সম্ভাবনাময় বিকেল


ঠিক নিশ্চিত নই
কিভাবে সম্বোধন করবো
ডান হাত পিছনে ভাঁজ করে , বাম হাত বাড়িয়ে দেবো
সম্ভ্রান্ত পুরুষের গোপন আহবানে


ঠিক নিশ্চিত নই
তবুও এগিয়ে যাচ্ছি, প্রস্তুতি শুরু করেছি
সদ্য জন্মানো বিকেল থেকে,
হালের বেহাল দশা, পালের তোবড়ানো
বলে দেয়, অনেককাল নীল জল চিরে ছুটিনি
তাই বলে থেমে নেই, আমাদের আশৈশব পৃথিবী
ঠিক মেপে মেপে ঘুরছে, সে হন্তারক অভ্যেসের বশে
একবারও তার মনে হয়নি, আজ এই বিকেলে
হুট করে কি থেমে যাওয়া যায় না। ফালি ফালি রোদের চকচকে অবকাঠামোয়
তরল যে উষ্ণতাটুকু আসছিলো, সেই উষ্ণতার মোহেও তো থামা যায়।

ঠিক নিশ্চিত নই
বিকেল কিভাবে প্রক্রিয়াজাত করতে হয়
জানলে আজ প্যাকেটজাত বিকেলে বাজার সয়লাব করে দিতাম,
বোকা বাক্সের মোহাবিষ্ট কিশোর-কিশোরীদের তালুতে তুলে দিতাম একটা রোদেলা বিকেল।




এত সব অনিশ্চয়তার মাঝে ও পেরিয়ে গেল বেশ কয়েকটা সকাল
একঘেঁয়ে, পানা জলে সাঁতরানো কিছু দুপুর
এবং সম্ভাবনাময় কিছু বিকেল।

ঠিক সেই রকম, সম্ভাবনাময় এক বিকেলে
দুহাতের আঁজলায় মুখচ্ছবি নিয়ে
দুর্বিনীত ভালবাসার ঘোষণা করেছি
।।



৩১শে এপ্রিল, ২০০৭
কলাম্বিয়া।

তুমি কোন পথে যে এলে



তুমি কোন পথে যে এলে, এলে পথিক

আমি দেখি নাই তোমারে

তুমি কোন পথে যে এলে

হঠাৎ স্বপ্‌ন সম দেখা দিলে বনেরই কিনারে

তুমি কোন পথে যে এলে,

ফাগুনে যে বান ডেকেছে, মাটির পাথারে

তোমার সবুজ পালে লাগলো হাওয়া, এলে জোয়ারে

ভেসে এলে জোয়ারে

যৌবনের জোয়ারে

তুমি কোন পথে যে এলে, এলে পথিক

আমি দেখি নাই তোমারে

.

.

.

তোমার মালার গন্ধে তারই আভাস প্রাণে বিহারে

তুমি কোন পথে যে এলে, এলে পথিক

আমি দেখি নাই তোমারে ।।




শাহানা বাযপেয়ি’র গলায় রবি ঠাকুরের ভাষায় প্রার্থনা করছি অবিরত, অনবরত এবং অবচেতন চেতনায়।

কৃতজ্ঞতা জানাই শাহানা’কে।

Mar 26, 2007

তামাদি স্বপ্নেরা যাচ্ছে, সব অন্যদের অধিকারে



মস্তিষ্কের খুপরিতে বাসা বেঁধেছে
চাক ভেঙ্গে বেরিয়ে আসা বিদ্রোহী মৌ এর দল
এদের সরানো বড় সোজা নয়
,
বেশী দিন থাকলে মস্তিষ্কই দাবী করে বসবে তামাদী বলে;
তামাদী করতে নেই কখনো প্রেম তাই,
কারও অধিকারে যাবার আগে উদ্ভাসিত হতে হয় আপন আয়নায় বারবার।


* ছবিটি পোস্ট সিক্রেট থেকে নেওয়া। যেখানে কারিগর এর নাম গোপন থাকে। সাতবার প্রেমে পড়া মানুষ নিশ্চিত ভাবেই ভাগ্যবান এবং দূর্ভাগা; আরোহন এবং অবরোহন দুভাবে দেখলে।

আমার মনের হাউশ


আমার নাটাই কাটা ঘুড়ির পানে

চেয়ে থাকতে থাকতে জলে ভরে যায় ঈশ্বরের চোখ,

কত সুস্বাদু শৈশব ফেলে আজো নিয়ে বসে আছি

পুরোনো জঞ্জাল ।


দেবদূতেরা খাতা কলম ফেলে

সাবান পানির বুদবুদে ছিলিম ছিলিম নেশা করে

আর আমি বসে ঠায়, তোমার কিনারায়

প্রভূ জল কে চল।


তেড়িয়া কিসিমের বালকের চক্ষু

এড়িয়ে ঘোরাঘুরি করতে থাকা ঘাগু রুই

এর ঘিলুতে, সঁপে দিয়ে সভ্যতা

এসো জলকেলী তে মত্ত হই।


অপুর ছুঁড়ে দেওয়া পুঁতির মালাটা

অত্যার্শ্চায জীবনমুখীতায় ঝুলে রইল মাঝ পুকুরে

পানাদের দল সশব্দে বলি উঠে,

ও দূগ্গা বেলা যে হয়ে গেল চারটে খাবি নে।


আমি নোনা জলের মাঝে

কি এক অপরুপ মাছের খোঁজে,

চিৎকারে চিৎকারে খুঁজি নীরব

বন্দর।


১৯ শে জুলাই,২০০৬
ওয়েস্ট কলাম্বিয়া



Mar 12, 2007

রাতের সড়ক


মেঘ মুলুকে ঝাপসা রাতে
স্বপ্ন হাতে, মেজাজ সাতে
সপ্তর্ষীর মিঠে আলোয়
গুল বদনের হাতের চেটোয়
ভালবাসা সঁপে দিও
আলগা শরীর লুটিয়ে দিও।।

Mar 6, 2007

বলা হয়নি এখনো



অনেক কিছুই বলবার ছিল, তবে এখন মনে একটাই কথা ভেসে বেড়াচ্ছে, সেটা হলো '' বেনসননের শূন্য প্যাকেট, আমার দিকে হা করে তাকিয়ে আছে'' বলছে '' পারলি না আর একটু রয়েসয়ে টানতে'' অনেককাল পর পেয়েছিলাম দেশি বেনসন।

পক্ষকাল আগে একবার টেনেছিলাম একটা গোল্ডলীফ। কোন এক জগৎশেঠ দেশ হতে এনেছিল এক প্যাকেট, সুযোগ পেয়েছিলাম একটা টানবার। অবশ্য আমি জগৎশেঠের চেয়ে কম যাই নে, আমি একাই টেনেছি বেনসন।

কখনোই সচেতন অনুরক্ততায় বলিনি ভালবাসি
তীব্র এক প্রশ্ন নিয়ে
করে গেছি অবিরত চুম্বন
বুক পকেট কিম্বা উরুসন্ধির তীব্র উষ্ণতা আর কজনা পায় বলো;
কিন্তু দেখো আজো বলিনি ভালোবাসি
রন্ধ্রে রন্ধ্রে তোমার গমন
হেথা সেথা যেথা কভূ ঈশ্বর করেননি পদার্পণ
তবুও আজো তোমায় বলিনি ভালোবাসি
প্রতিটি অনাগত বসন্ত কিংবা অনাঘ্রাতা নারীর কসম
প্রতিটি ঋতুতে অসামান্য আবেদন ছিলো তোমার
অথচ আজো বলা হলো না ভালবাসি
।।



২'রা মার্চ, ২০০৭